মেমসাহেব-Memsaheb। নিমাই ভট্টাচার্য। বই রিভিউ

"মেমসাহেব" নামটা শুনলেই অদ্ভুত লাগছে তাই না! হ্যাঁ আমার লেগেছিলো তাই তো এতো আগ্রহ ছিলো বইটা পড়ায়, মেমসাহেব কিভাবে হলো বইটার নাম এটা কি কোনো চরিত্র থেকে? নাকি কারোর নাম? হ্যাঁ এই প্রশ্নগুলো আমার মনে উঠেছিলো। বইটি যতোই পড়ছিলাম ততোই যেনো আরো আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছিলো, লেখকের জীবনে পরে কি হলো, তার পর কি হলো এক কৌতুহল নিয়ে বইটি পড়ে শেষ করলাম, সত্যি বলতে বইটিতে বাস্তব এক কাহিনী ফুটে উঠেছে। হ্যাঁ বাস্তবতাও এমনই হয়। পরে পুরোটা পড়ে বুঝতে পারলাম আসল কাহিনি। 

বইঃ মেমসাহেব

কাহিনি সংক্ষেপঃ

________এটা আসলে একটা ছেলের জীবন কাহিনী। ছোটো থেকে মা হারা, বাবার ভালোবাসাও পায়নি তেমন। অবহেলার মধ্যে দিয়ে বড়ো হ'য়ে। তবে ছোটো থেকেই লেখক স্বাধীন ভাবে নিজের মতো করে বেড়ে উঠেছে। ছিলো না শাসন করার মতো কেউ। ছিলো না। বাংলাদেশ দু'টি ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার পর লেখক কলকাতায় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করে। সেখানে সে সাধারণ একটি কলেক থেকে এম.এ. পাশ করে। টিউশনি করিয়ে নিজের খরচ চালাতো। এম.এ পাশ করে একটা অফিসে রিপোর্টরের চাকরি পেলো। তখন লেখকের জীবনে মেমসাহেব নামের একজন এলো। টেক্সিতে দেখা হয়েছিলো প্রথম। প্রথম দেখাতেই মেমসাহেবের ঐ কাজল কালো দুটো চোখের দিকে তাকিয়েই লেখক হারিয়ে গিয়েছিলো। তখনই তার উপলব্ধী হয়েছিলো এই মেয়েই তার জীবনে নতুন আলো নিয়ে আসবে। পরের বার আবারো দেখা হলো কথা হলো। এভাবে দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলো। কিন্তু লেখক তো ছিলো মাএ কয়েক টাকা মাইনে পাওয়া রিপোর্টার। তাই মেমসাহেব তাকে ভরসা দিতো মনে। মেমসাহেব একটি কলেজে টির্চার ছিলো তখন। আস্তে আস্তে এভাবেই লেখক দিল্লি গেলো সেখানে একটা রিপোর্ট অফিসে ভালো মাইনে চাকরি পেলো। মেমসাহেব আসার কর লেখকের উন্নতি যেনো বেড়েই গেলো। একটা সময় লেখক একটা ভালো পর্যায়ে গেলো তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলো বিয়ে করার। কিন্তু নিয়তির খেলা তাদের ভালোবাসা পেলো না পূর্ণতা। মেমসাবের বাড়ির এক ভারাটিয়া খোকন। খোকনের মা ছিলো না বাবা কর্মব্যাস্ত ছিলো তাই, মেমসাহেব খোকনকে নিজের ছেলের মতো দেখতো আদর স্নেহ দিতো। একদিন একটা দূর্ঘটনায় খোকনকে বাঁচাতে গিয়ে মেমসাহেব গুলি খেলো। কিন্তু ও দিগে যে অধীর আগ্রহে টোপর মাথায় ধুতি পরে লেখক বিয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলো। মেমসাহেব এবং লেখক দুজন দুজনকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতো তাইতো পঞ্চাশ টাকা মাইনে পাওয়া রিপোর্টরের একদিন বাড়ি গাড়ি সব হয়েছিলো মেমসাহেবের জন্য। কিন্তু মেমসাহেবই ছিলো না শেষ পর্যন্ত।

এই পুরো কাহিনীটি বইটিতে লেখক তার দৌলাবৌদিকে চিঠি লিখে জীবনের কাহিনী জানিয়েছেন। আজ সে বড়োই একা সব কিছু থেকেও কিছু নেই আজ।

আরো পড়ুনঃ মসলার যুদ্ধ- Moslar Juddho বইয়ের রিভিউ।। সত্যেন সেন

_______ব্যাক্তিগত মন্তব্যঃ

আসলে সত্যি বলতে পৃথিবীটাই এমন যাকে যে বেশি ভালোবাসে। তাকে সে ততো তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলে। কিছু করার নেই এটাই নিয়তির অদ্ভুত খেলা। তাই তো লেখক মেমসাহেবের জন্য এতো কিছু পেলো তাকে সুখি করার জন্য। কিন্তু আজ সেই মানুষটি নেই জীবনে। ভালোবাসা হলো মহান রবের দেয়া এক উপহার। কিন্তু সেটা হয়তো কখনো সুখি করে কখনো বা দুঃখী করে। তেমনই লেখকের জীবনেও মেমসাহেব শেষ পর্যন্ত রইলো না।কিছু করার নেই। নিয়তিকে মেনে নিয়ে সামনে চলতে হবে। এর নামই জীবন।


বইঃ মেমসাহেব 

লেখকঃ নিমাই ভট্টাচার্য 

প্রকাশকঃ সুধাংশুশেকর দে। 

প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারি- ২০১৮

মূল্যঃ ২৫৭৳

রিভিউ লিখেছেনঃ sania Akter

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন