সাতকাহন - Satkahon। সমরেশ মজুমদার বই রিভিউ

টি একটি নারী জাগরণের বই।একটি নারী জীবনের সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নারী চাইলে সব কিছু করতে পারে। তারা কোন অংশে কম নয় এটা দীপাবলি নামক নারীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে সমরেশ মজুমদার।এই বই টি পড়ে আমি অবাক হয়েছি একজন ছেলের চিন্তা ভাবনা কতটা আধুনিক আর যুক্তিসম্মত হলে নারী জাগরণের লক্ষ্যে এই বইটি প্রকাশ করতে পারে।তার চিন্তা ভাবনার পরিধি এখনকার ছেলে দের চিন্তা ভাবনা থেকে আধুনিক।আমি মনে করি এই বই টি প্রতিটি মেয়ের পড়া উচিত।

 


বই: সাতকাহন


পাঠ-প্রতিক্রিয়া:-

সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস সাতকাহন।"সাতকাহন" নামের মধ্যেই যেন সমস্ত কিছু অন্তর্নিহিত। আর সেই সাতকাহনের প্রাণ ভ্রমরাই দীপাবলি। দীপাবলি নামটা শুনলেই বোঝা যায় অন্যায়, অন্ধকারে বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা এক উত্তপ্ত আলোকশিখা। উপন্যাসের প্রথমেই দেখানো হয় উত্তর বঙ্গের চা বাগান, কোয়ার্টারের মধ্যে  দুরন্ত, চঞ্চল, উড়নচণ্ডী এক ছোট্ট কিশোরী মেয়ের বেড়ে ওঠা। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে আপনার মনে হবে আপনি চা বাগানের রয়েছেন!মাছ ধরতে যাওয়া, ছেলে বন্ধুদের সাথে চড়ে বেড়ানো, শিশির ভেজা শিউলি ফুল কুড়ানো, মায়ের বকুনি, ঠাকুমার আদর, বাবার স্নেহে সবটা নিজে চোখে দেখতে পাচ্ছেন ! উপলব্ধি করতে পারছেন। উপন্যাসটা যে প্রেক্ষাপটে রচিত সেই সময়ে মেয়েরা দীপাবলির মতো ডানপিঠে ছিল না।আর না তাদের সেভাবে চলতে দেয়া হতো।সবে এগারো বছর পর্দাপণ করা সেই ছোট্ট কিশোরীটির বিয়ে হয় মাত্র বাহাত্তর ঘন্টার জন্য। সেই বিয়ের রাতেই সে জানতে পারে তার জীবনের অমোঘ সত্যটি। এতো দিন যাবৎ যাদের বাবা-মা জেনেছে তারা আসলে তার বাবা-মা নয়।আর মাত্র বাহাত্তর ঘন্টা পরই তার জীবনের স্রোতের গতিপথ অন্যদিকে মোড় নেয়।  সেই ছোট্ট কিশোরীকে চাপিয়ে দেয়া হয় সমাজের নিষ্ঠুর, নির্মম কিছু বিধি নিষেধাজ্ঞা। সেই সময়ে তার সঠিক পথ প্রদর্শন হয় কখন তার বাবা, কখনো সত্যসাধন মাস্টার আবার কখনো রমলা সেন। সকল বিধি নিষেধাজ্ঞা মেনে জীবন যাপিত করতে করতে দীপাবলি একদিন সব নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে পাঁচ সাবজেক্টে লেটার নিয়ে সে মাধ্যমিকের  গণ্ডি পেরোলো। তারপর শুরু হলো কলেজ জীবন। তারপরে কলকাতায় পড়াশোনা। শুরু হলো অন্য এক লড়াই। সময়ের পালাক্রমে জীবনে এলো নানান পুরুষ। উন্মোচন হল চেনা মানুষের অচেনা রূপ। তবুও হার না মেনে দীপাবলি এগিয়ে যায়  তার আপন লক্ষ্যে। পরিচিত হলো নানান মানুষ।কতশত  কাহিনী রচিত হলো । ক্ষমতার অপব্যবহার দেখলো।চা বাগানের সেই ছোট্ট কিশোরীটি আইএ এস‌‌‌ ও দিলো।আয়কর অফিসার হলো।তার জীবনে আবার নতুন পুরুষের আগমন ঘটলো।যার হাত দীপাবলি স্ব-ইচ্ছায় ধরলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি অদেও হাত ধরাছিল?নাকি জীবনযুদ্ধে লড়াকু সৈনিকের জীবন কাটাতে হয় নিঃসঙ্গতা আর একবুক হাহাকার নিয়ে?আর পাঁচটা মেয়ের সাথে কি দীপাবলিকে গুলিয়ে ফেললে চলে? উঁহু সে তো অন্যন্য। দীপাবলির জীবনের শেষ পরিণতি কি হয়েছিল যানতে হলে পড়তে হবে সাতকাহন।

 

পাঠ-প্রতিক্রিয়া:- 

কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো পড়লে আপনি লেখকের লেখার প্রেমে পড়তে বাধ্য।এই বইটা তারমধ্যে অন্যতম।বইটি পড়ে লেখার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবে সবাই আর সেই সঙ্গে সমরেশ মজুমদার প্রিয় লেখকদের মধ্যে একজন হিসেবে জায়গা করে নেবে। আমার পড়া বেস্টবই এটা।বইটি পড়ার সময় কিছুক্ষণ পর পর বুকচিরে শুধু দীর্ঘশ্বাসই বেড়িয়েছে। শেষ করার পড়েও কাহিনীর মধ্যে বুঁদ হয়ে ছিলাম। মাথায় শুধু একটা নামই ঘুরেছিল দীপাবলি।বইটি আপনাকে সর্বক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগাবে সাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেও বাধ্য করবে।মেয়ে হয়ে থাকলে জীবনে একবার হলেও সাতকাহন পড়া উচিৎ।

 

ব্যক্তিগতভাবে সবথেকে ভালোলেগেছিল এই লাইনটা"সেই কোন বালিকা বয়সে এক আলো ফুটতে শুরু হওয়া ভোরে চা-বাগানের বাড়ির সামনে শিশির ভেজা শিউলি ফুল তোলার সময় মালবাবুর বাড়িতে আসা এক শহুরে ছেলে তাকে বলেছিল তোমাকে ঠিক সুচিত্রা সেনের মতো দেখতে।"

 

বই: সাতকাহন

লেখক: সমরেশ মজুমদার

প্রকাশনী: অনন্দ পাবলিকেশন

মূল্য: ৬০০ টাকা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ