শেষ - জুনায়েদ ইভান।। বইয়ের রিভিউ

সফল সাসপেন্স প্লটের সফল শেষ-টা হয় একটা প্রশ্নের উত্তর অজানা রেখে। কাটাপ্পা কেন বাহুবলীকে মারল - এই বিখ্যাত প্রশ্ন দিয়ে যেমন বাহুবলী সিনেমা শেষ হয়েছিল, রুদ্র চিঠিতে কি লিখেছিল- এই প্রশ্ন দিয়ে তেমনি জুনায়েদ ইভান তার "শেষ"-এর শেষকে এঁকেছেন।

বইঃ শেষ

কাহিনি সংক্ষেপ:

"শেষ" উপন‍্যাসটির চরিত্র অনেক গুলো হলেও বার বার ঘটনার প্রেক্ষিতে যারা এসেছেন তারা হলেন, - শিহাব, হাসান, নিতু, রুদ্র ও রফিক সাহেব। এই পাঁচ চরিত্র নিয়েই শুভ সূচনা। শিহাব একজন সাদাসিধে মানুষ। মা বাবা মারা যাওয়ায় তার নিজের বাসায় মন টিকে না বিধায় সে নিজের বাসা ছেড়ে একা থাকে। সাদাসিধে মানুষ টা রাত জেগে লেখে। শিহাবের রুমমেট হাসান। যে কিনা একটা সুইসাইড নোট লিখে বাসা থেকে বের হয়ে যায় দড়ি কিনতে। দড়ি কিনার উদ্দেশ্য  আত্মহত্যা। সে আত্মহত্যা করতে দড়ি কিনতে যায়। তবে দিন শেষে সে দড়ি না কিনে বাসায় ফিরে একটা অ‍্যাকুরিয়াম হাতে। সে আত্মহত্যা করবে না। শিহাব মূলত হাসান কে নানান নির্দেশনা দেন কিভাবে সহজ পদ্ধতিতে  আত্মহত্যা করা যায়। কিন্তু হাসানের কোনো নির্দেশনাই ভালো লাগে না। যুক্তিযোগ‍্য মনে হয় না তার কাছে।

আরো পড়ুনঃ অপরাজিত উপন্যাস রিভিউ। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়


তেমনি একদিন শিহাব জানতে চায় হাসান আসলে কেন আত্মহত্যা করতে চায়। হাসান তার উত্তর দিতে ফিরে যায়  অতীতে। যেখানে নিতু সাথে তার প্রথম দেখা। একটি ভুল স্টেশনে নেমে যায় তারা। সেখান থেকেই ঘটনা এগোতে থাকে।

নিতুর প্রাক্তন স্বামী রুদ্র। তাদের প্রেম করে বিয়ে হলেও এক বছরের মাথায় রুদ্রর একটা অসুখ দেখা দেয়,ভুলে যাওয়ার অসুখ। সে এক পর্যায়ে  বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায়। যেখানে নিতু কে ও চেনা বোধগম্য হয় না রুদ্রর। নিতু এক পর্যায়ে রুদ্র কে ডিভোর্স দিয়ে চলে আসে। তবে হঠাৎ রুদ্র সুস্থ হয়ে ফিরে আসে। নিতুর বাসায় গিয়ে ঠিকানা জোগাড় করে হাসানের বাসায় চলে যায়। সেখানে নিতু কে পায় না রুদ্র। হাসান বলে সে বাসায় নেই। রুদ্র হাসানের হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে বলে নিতু কে দিতে কিন্তু হাসান সেটা নিতুর হাত অব্দি যেতে দেয় নি। সেখানেই গন্ডগোলটাই হয়। এক নিমিষেই হাসান আর নিতু নিমজ্জিত হয়ে যায়। দুইজন দুই তীরের ছায়া হয়ে যায়।

উৎসর্গ: 

লেখক বইটি তার বাবা কে উৎসর্গ করেছেন। একটা বইয়ের আসলে এমন উৎসর্গই হওয়া সমিচীন। লেখা টা ছিল এমন-- আমার বাবা সিংহের মতো না, সিংহের স্বভাব হলো সে যত শক্তিশালীই হোক না কেন, সব সময়  পালানোর জন্য একটা জায়গা সে রাখে। আমার বাবা বট গাছের মতো। পড়ন্ত রোদের ছায়ার দরকার হলে আমি বট গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়াই।

নামকরণঃ 

উপন্যাসের চরিত্রগুলো তাদের বস্তুগত জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে গল্পের আসর খুলে বসেছে, লেখক হয়তো সেখান থেকেই উপন্যাসের নাম "শেষ" রেখেছেন। 

চরিত্রায়নঃ 
"শেষ" উপন্যাস একটি বহু চারিত্রিক উপন্যাস। এখানে চরিত্রের অলিগলিতে গল্পে ভরপুর। "শেষ" অনেকটা সার্থক সাসপেন্স উপন্যাস এই কারণেই যে, সাসপেন্স উপন্যাসে যতগুলো চরিত্র থাকতে হয় সবগুলোই একটা জায়গায় গিয়ে মিলতে হয়। সহজভাবে, পরিণতিতে সবারই কোন না কোন হাত থাকতে হয়। জুনায়েদ ইভান অপ্রয়োজনীয় কোন চরিত্র সৃষ্টি করে সে ভুলটা করেননি। প্রধান চরিত্র অবশ্যই হাসান আর নিতু। তবে পাঠক কখনো শিহাবের ভেতর দিয়ে উপন্যাসকে নিয়ে এগোবে, কখনোবা হাসানের ভেতর দিয়ে। তবে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আছে- রুদ্র। সবগুলো সম্পর্ক ভালো করে বুঝতে হলে আপনাকে রীতিমতো খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে।

মোদ্দকথা, জুনায়েদ ইভানের শেষ উপন্যাস একটি বেস্টসেলার হওয়ার যোগ্য বই। Ashes এর গায়ক এবং লেখক জুনায়েদ ইভানের জন্য অবিরাম শুভকামনা।

বইয়ের নামঃ শেষ
লেখকঃ জুনায়েদ ইভান
প্রকাশনীঃ কিংবদন্তী পাবলিকেশন
প্রকাশকঃ অঞ্জন হাসান পবন
মূল্যঃ ৩৫০ ৳
ক্যাটাগরিঃ সমকালীন উপন্যাস 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন