আসমান - Asman লতিফুল ইসলাম শিবলী।। বইয়ের রিভিউ

বেশ কিছুদিন আগে কারো বইয়ের রিভিউ থেকেই বইটার ব্যাপারে জানতে পারি। তার রিভিউ পড়ে কেন যেন বইটা পড়ার প্রতি বেশ আগ্রহ জন্মে। বিশেষ করে বইয়ের লেখক এবং বইয়ের টপিক জানার পর। বাংলাদেশের একজন উচ্চমানের গীতিকার যিনি গান-বাজনার জগতের মানুষ, তিনি কিভাবে এরকম একটা বই লিখেছেন আর কিই বা লিখেছেন ইসলাম নিয়ে,জিহাদ নিয়ে,আফগানিস্তান নিয়ে? 

বইঃ আসমান


আবার এরকমও জেনেছি বইটা পড়ে অনেকেই নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। অন্ধকার চিরে আলোর দেখা পেয়েছে। একরকম কৌতুহল থেকেই বইটা কেনা এবং পড়া। পড়া শেষে আমি হতাশ হইনি। বরং বেশ ভাল কিছুই পেয়েছি।


▪︎কাহিনী সংক্ষেপ:

নব্বই দশকের শেষ সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক যুবক, ওমার। গল্পের শুরুটা মানব প্রেমের বিচ্ছেদে উচ্ছন্নে যাওয়া এ যুবক আর বৃদ্ধ  ইমাম সাহেবের কথোপকথন দিয়ে। 'হৃদয় আল্লাহর ঘর। মানুষের হৃদয়টা তৈরি করা হয়েছে এই জন্য যে সেখানে শুধুমাত্র আল্লাহ থাকবেন। সে ঘরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু ঢুকালেই শুরু হবে তােমার জাগতিক অশান্তি।' বইয়ের শুরুতেই ইমাম সাহেবের এই হৃদয়স্পর্শী উক্তি যে কাউকে থমকাতে বাধ্য। 

মানুষ যখন একাকিত্ব, হতাশার সাগরে ডুবে থাকে তখন দুনিয়ার সকল জায়গায় প্রশান্তি খুঁজে বেড়ায়। ওমারও তেমন এক চিলতে প্রশান্তির খোঁজে, তার কলেজ জীবনের রকস্টার বন্ধু রুশোর সাথে ঘুরে বেড়িয়েছে নিষিদ্ধ জগতে। কিন্তু এ আনন্দগুলো সাময়িক প্রশান্তি দিলেও মুছে দিতে পারেনি ক্ষতদের। তাই নিজের মমতাময়ী মায়ের পরামর্শে শেষমেশ ধরনা দেয় ইমামের দুয়ারে। ওমার দৃঢ় ব্যক্তিত্ববান, যুক্তিবাদী মানুষ, সাধারণ গদবাধা কথা তাকে স্পর্শ করতে পারে না। কিন্তু ইমাম সাহেবের মুখে ডারউইনের মতবাদ থেকে শুরু করে, রাষ্ট্র, দর্শন, অর্থনীতি সবকিছু তাকে মুগ্ধ হতে বাধ্য করেছে। সমাজের গড়পরতা নিয়মের বাইরে গিয়ে এই উচ্ছন্নে যাওয়া যুবকের প্রতি ইমাম সাহেবের বন্ধুত্বের হাত বদলে দেয় তাকে। এখান থেকেই শুরু হয় তার প্রত্যাবর্তনের গল্প। সৃষ্টির প্রেমে মজে থাকা যুবক থেকে পরিণত হয় স্রষ্টার ভালোবাসা প্রার্থীতে। আর এ ভালোবাসা তাকে নিয়ে যায় পাকিস্তানে আর পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে! এখানেই কি শেষ? না পাঠকের চিন্তাশক্তি যেখানে শেষ লেখক সেখান থেকেই শুরু করে এক নতুন কাহিনী, নতুন গল্প! আর সেটা জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই পুরোটা উপন্যাস পড়তে হবে।

আরো পড়ুনঃআমি তপু- Ami Topu।। জাফর ইকবাল বইয়ের রিভিউ

▪︎পাঠ্য অনুভূতি:

বইটি,যতই পড়ছিলাম -ততই মুগ্ধতা বাড়ছিল।লেখকের বহুমাত্রিক লেখনী শক্তির প্রশংসা না করলেই নয়।অ্যাডভেঞ্চার,থ্রিল,রোমান্টিকতা , সব কিছুর  পারফেক্ট কম্বিনেশনে সাজানো অনবদ্য বইটি সকলের নিকট সুখপাঠ্য হতে বাধ্য।বইয়ের প্রতিটি চরিত্রকে লেখক এমন সমৃদ্ধ  বৈশিষ্ট্যে সাজিয়েছেন, ভেবে অবাক হচ্ছিলাম!

সমালোচনা:

আমি নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ। কারো সমালোচনা করার মতো যোগ্যতা আমার নেই। তবে একজন পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু মন্তব্য প্রকাশ করছি, যদি এতে লেখক উপকৃত হন এই ভেবে! আমার কাছে মনে হয় একটা বইয়ের অর্ধেক সৌন্দর্য ফুটে উঠে এর প্রচ্ছদে। কিন্তু কেন যেন আমার কাছে এই বইয়ের প্রচ্ছদটা তেমন আকর্ষণীয় মনে হয়নি। এছাড়াও বইয়ে কিছু জায়গায় কথোপকথনের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতি চিহ্ন ঠিকঠাক ব্যবহার করা হয়নি, যার ফলে বুঝতে কষ্ট হয়েছে এটা আসলে কার উক্তি।


বইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক যেটা তা হলো লেখক চাইলে বইটাতে আরও বিস্তারিত আলোচনা করে ৫০ পেজ বাড়াতে পারতেন। তবে পাঠকের কথা চিন্তা করেই হয়তো মাত্র দেড়শো পেজেই গল্প শেষ দিয়েছেন। আর এধরনের থ্রিলার,প্রেম,যুদ্ধের বইতে শেষে কেমন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। লেখক তা রাখেননি। লেখক বেশ ভালো ভাবেই গল্পের সমাপ্তি টেনে দিয়েছেন। এরচেয়ে ভালো সমাপ্তি হয়তো হয় না। সবশেষে গল্পের যে টাইটেল 'যে গল্প জীবনের চেয়েও বড় '

আসলেই কোনো কোনো গল্প জীবনকে ছাপিয়ে যায়। হয়ে যায় জীবনের চেয়েও বড়। সেই রকমই একটি গল্পের ভেতর দিয়ে ঘুরে আসুন। ঘুরে আসুন যুদ্ধ, বিধ্বস্ত এক দেশ আফগানিস্তান থেকে।


বই: আসমান

লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী   

প্রকাশনী: নালন্দা

পৃষ্ঠাসংখ্যা:১৫৮

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ